January 28, 2026, 5:03 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
দুটি বন্দর দিয়ে চাল আসায় সরবরাহ বেড়েছে, কমতে শুরু করেছে দাম ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দ্রুত সম্পন্নের কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের কুমারখালীতে কথিত কিশোর গ্যাং ‘KBZ’-এর দুই সদস্যের বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে ‘নিখোঁজ’ ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র, কে কি বলছেন রেকর্ড উৎপাদন, রেকর্ড মজুত—তবু চাল আমদানির দরজা খুলে রাখতে হয় সারা বছর বৃহত্তর কুষ্টিয়ার চার জেলায় ৪ সমাবেশ/নৈতিক পুনর্জীবন ও মনোভাব পরিবর্তনের আহ্বান জামাত আমীরের কম মেকআপে স্বাচ্ছন্দ্য—যে ১১টি গুণে আলাদা করে চেনা যায় এই নারীদের কুষ্টিয়ার ৪টি আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে আগ্রহ ১৬ হাজার ছাড়াল ভারতের নতুন বার্তা: বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধিশালী সম্পর্ক অব্যাহত রাখার প্রতি প্রতিশ্রুতি ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ায় কমেছে গুঁড়া হলুদের দাম

কুষ্টিয়ায় অবৈধ ভাটা চালাতে দেয়ার দাবিতে মালিক-শ্রমিক সমাবেশ

দৈনিক কুষ্টিয়া প্রতিবেদক/ 
অবৈধ ভাটাগুলো ২০২৫ সাল পর্যন্ত এভাবেই চলতে দেয়ার দাবিতে কুষ্টিয়ায় সমাবেশ করেছে ইটভাটা মালিক এবং শ্রমিকরা। একইসঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছেন। এই দাবি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির খুলনা বিভাগীয় কমিটির পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক জেলায় জেলায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল ১০টা থেকে কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামে জড়ো হতে থাকেন ইটভাটা শ্রমিকরা। জেলার বিভিন্ন এলাকার ইটভাটা থেকে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে লোক আসতে থাকে। পরে সাড়ে ১১টার দিকে মিছিল করে তারা অদূরের কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের কার্যালয় ঘেরাও করে। এসময় ভাটা মালিক-শ্রমিকরা ব্যানার ও প্লেকার্ডের মাধ্যমে তাদের দাবি দাওয়া তুলে ধরেন। তারা ভাটা চালু রাখার পক্ষে স্লোগান দেন। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন সার্কিট হাউজে এই স্মারক পত্র গ্রহণ করেন। ইটভাটা মালিকরা বলেন, দাবি মানা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য খুলনা বিভাগের সমস্ত ইট ভাটা ইট বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ করে দেবে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে শ্রমিকদের সামনে নিয়ে এসেছে ইটভাটা মালিকরা। ভাটার শ্রমিক নন এমন লোকদেরও আনা হয়েছে সমাবেশ বড় করতে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কথা হয় দৌলতপুর থেকে আসা মহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি কোন ভাটা থেকে এসেছেন জানাতে পারেন নি। পাশের অন্য শ্রমিক উত্তর দিয়েছেন মামুনের ভাটা। শ্রমিকরা নিজ উদ্যোগে নিজ খরচে এসেছেন জানালেও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে তাদের বহনকারী অনেক বাস এবং ট্রাক দেখা গেছে।
জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে শ্রমিক সমাবেশে কুষ্টিয়া জেলা ইট প্রস্তুত কারক মালিক সমিতির সভাপতি হাজী আক্তারুজ্জামান মিঠু অন্তত: আগামী ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভাটা চালানোর অনুমতি দাবি করেন। তারা বলেন, ঘণ ঘণ আইন পরিবর্তন হওয়ায় তাদের এসব ভাটার ছাড়পত্র পাওয়া সম্ভব নয়। পরিবেশসম্মত ও আধুনিক পদ্ধতিতে ভাটা রূপান্তর করতে তারাও চান বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, এই মুহূর্তে এভাবে ভাটা বন্ধ করে দিলে, অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলে তারা নিঃস দেউলিয়া হয়ে পড়বে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক আতাউর রহমান বলেন, কুষ্টিয়ায় মোট ১৭৫টির মতো ইটভাটা আছে। এরমধ্যে মাত্র ৪২টির পরিবেশ ছাড়পত্র আছে। তিনি বলেন, এই ৪২টির বাইরেও আধুনিক এবং পরিবেশসম্মত ইটভাটা এখানে আছে। তবে, আইনে স্থানগত কারণে তারা ছাড়পত্র পাচ্ছেন না। আতাউর বলেন, সরকারের আইনের প্রেক্ষিতে তারা অভিযান পরিচালনা করছেন। অবৈধ ইটভাটা চালাতে দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। মালিক-শ্রমিকদের দাবিদাওয়ার বিষয়টি ঢাকায় জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, আইন দ্রুত পরিবর্তন করা হয়েছে এই বিষয়টি সঠিক নয়। সরকার ২০০২ সালে ড্রাম চিমনি নিষিদ্ধ করে। আর ২০১২ সালে এসে ফিক্সড চিমনি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। ভাটা মালিকরা যতেষ্ঠ সময় পেয়েছেন আধুনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করার।
এদিকে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও ভূগোল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম মোস্তফা কামাল বলেছেন, খামখেয়ালীভাগে যত্রতত্র ভাটা স্থাপন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। ভাটা মালিকরা যতেষ্ঠ সময় পেয়েছে আধুনিকায়ন করার। কিন্তু তারা সেদিকে যায়নি। তিনি বলেছেন, ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ সরকারের ভাল উদ্যোগ, দেশের জন্য, পরিবেশের জন্য মঙ্গলজনক। সরকারের পাশে আমাদের থাকতে হবে।
সচেতন নাগরিক কমিটি, টিআইবি, কুষ্টিয়ার সভাপতি রফিকুল আলম টুকু বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, শুধু ভাটা মালিকদের কথা ভাবলেই চলবে না। দেশের কথা দেশের জনগণের কথা ভাবতে হবে। পরিবেশ দূষণ করবে এরকম কাজ করতে দেয়া যাবে না। ভাটা মালিকরা অনেক সময় পেয়েছে। তারা কেন নীতিমালা মেনে ভাটাগুলোকে আধুনিকায়ন করেনি। তারা সরকারের নীতি অবজ্ঞা করে জোর করে তাদের সুবিধার জন্য এসব দাবি তোলেন, তা আদৌ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
দেশকে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতেই দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আইন প্রণেতারা ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) করেছেন। এতে বলা হয়েছে- উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন, জ¦ালানি সাশ্রয়ী এবং বায়ুদূষণকে নির্ধারিত মানমাত্রার মধ্যে রাখতে সক্ষম হবে এমন অবকাঠামোকেই ইটভাটা বলা হবে। আর জেলা প্রশাসকের দেয়া লাইসেন্সছাড়া কোন ব্যক্তি ইটভাটা স্থাপন করতে পারবেন না। (ক) আবাসিক, সংরক্ষিত বা বানিজ্যিক এলাকা, (খ) সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, (গ) সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি (ঘ) কৃষি জমি (ঙ) প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (চ) ডিগ্রেডেড এয়ার শেড এর অভ্যন্তরে ভাটা বসানোর লাইসেন্স কেউ দিতে পারবে না। এছাড়াও এসবের এক কিলোমিটারের মধ্যেও ভাটা করা যাবে না। এমনকি রেলপথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটারের মধ্যে ভাটা থাকতে পারবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net